২৮ মার্চ ২০২৬

আস্থা PROM: ফসফরাসের জৈব উৎস ও আধুনিক চাষাবাদের সম্পূর্ণ গাইডলাইন

আস্থা PROM: ফসফরাসের জৈব উৎস ও আধুনিক চাষাবাদের সম্পূর্ণ গাইডলাইন

মাটিতে আটকে থাকা ফসফেট মুক্ত করে ফসলের বাম্পার ফলন নিশ্চিত করুন!

আস্থা PROM ব্যবহারের সম্পূর্ণ গাইড

গাছের বৃদ্ধি এবং শিকড় মজবুত করার জন্য ফসফরাস একটি অপরিহার্য উপাদান। কিন্তু রাসায়নিক ফসফরাস সার অনেক সময় মাটিতে পাথর হয়ে আটকে যায় যা গাছ গ্রহণ করতে পারে না। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হলো আস্থা PROM। নিচে এর ব্যবহার এবং উপকারিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

মাটিতে আটকে থাকা ফসফেট ও আস্থা PROM-এর ভূমিকা

দীর্ঘদিন জমিতে রাসায়নিক সার (যেমন ডিএপি বা এসএসপি) ব্যবহারের ফলে মাটিতে প্রচুর পরিমাণে ফসফেট জমা বা "স্টোর" হয়ে থাকে। মাটি শক্ত হয়ে যাওয়ায় গাছ এই ফসফেট সরাসরি নিতে পারে না।

📍 ম্যাজিকের মতো কাজ: আস্থা PROM-এর মধ্যে থাকা বিশেষ ফসফেট দ্রাবক ব্যাকটেরিয়া (PSB) মাটিতে দীর্ঘকাল ধরে আটকে থাকা এই অবরুদ্ধ বা "Lock" হয়ে থাকা ফসফেটকে ভেঙে ফেলে এবং ফসলের ব্যবহারের উপযোগী করে দেয়। এটি ব্যবহারের ফলে জমি যেমন উর্বর হয়, তেমনি গাছের খাদ্য গ্রহণ ক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যায়।

এটি কি রাসায়নিক DAP বা হাড়ের গুঁড়োর পরিবর্তে ব্যবহার করা যায়?

হ্যাঁ, অবশ্যই! আস্থা PROM রাসায়নিক DAP (ডিএপি) এবং হাড়ের গুঁড়োর (Bone Meal) একটি অত্যন্ত কার্যকর ও নিরাপদ জৈব বিকল্প।

  • DAP-এর বিকল্প: রাসায়নিক ডিএপি মাটির অম্লত্ব বাড়িয়ে দেয়, কিন্তু PROM মাটির স্বাস্থ্য ঠিক রেখে ফসফরাস যোগান দেয়।
  • হাড়ের গুঁড়োর বিকল্প: হাড়ের গুঁড়ো থেকে ফসফরাস অবমুক্ত হতে অনেক সময় লাগে, কিন্তু PROM-এ থাকা ব্যাকটেরিয়া দ্রুত পুষ্টি সরবরাহ নিশ্চিত করে।

কেন এবং কারা ব্যবহার করবেন?

ব্যবহারের সুবিধা:

  • শিকড় দ্রুত গভীরে ছড়ায় ও গাছকে মজবুত করে।
  • মাটিতে অবরুদ্ধ ফসফেটকে মুক্ত করে গাছের পুষ্টি নিশ্চিত করে।
  • ফুলের সংখ্যা বাড়ায় এবং উন্নত মানের বীজ ও ফল গঠন করে।
  • মাটির উর্বরতা দীর্ঘদিন বজায় রাখে।

না করলে কি অসুবিধা?

  • শিকড় দুর্বল থাকে, ফলে গাছ পুষ্টি শোষণ করতে পারে না।
  • মাটিতে সার জমা হয়ে থাকলেও গাছ না নিতে পারায় বৃদ্ধি থমকে যায়।
  • ফলন আশানুরূপ হয় না এবং বীজের মান খারাপ হয়।

প্রয়োগের মাত্রা ও নিয়ম (জমি ও ছাদবাগান)

ক্ষেত্র প্রয়োগের মাত্রা কখন ও কীভাবে
কৃষি জমি বিঘা প্রতি ২০ কেজি জমি তৈরির সময় শেষ চাষে মাটির সাথে মিশিয়ে।
ছোট টব (৮-১০ ইঞ্চি) ৫০-১০০ গ্রাম (২-৩ চা চামচ) চারা লাগানোর সময় মাটির সাথে মিশিয়ে।
বড় ড্রাম/ফল গাছ ২০০-৩০০ গ্রাম বছরে দুবার মাটির চারপাশে ছড়িয়ে হালকা খুঁড়ে দিন।

লিলা এগ্রোটেক প্রাইভেট লিমিটেড

📍 সুপ্রভাত অ্যাপার্টমেন্ট, পি-৪৭৬ বাসুনগর, মধ্যমগ্রাম, কলকাতা - ৭০০১২৯

📞 টোল ফ্রি: ১৮০০-৮৩৩-৯৪০০

আমাদের ওয়েবসাইট দেখুন

২৭ মার্চ ২০২৬

গমের উন্নত চাষাবাদ: জৈব (Organic) ও বায়ো (Bio) পদ্ধতিতে বাম্পার ফলনের বিস্তারিত গাইড

মাটি থেকে ঘরে সোনা: গমের উন্নত চাষাবাদ ও বাম্পার ফলনের সম্পূর্ণ সিক্রেট গাইড

আপনি কি জানেন, সঠিক পরিচর্যা ও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিই পারে আপনার গমের ফলন ২৫% পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে?

গমের উন্নত চাষাবাদ

চিত্র: বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে চাষ করা সোনালী গমের ক্ষেত।

গমের শীষ যদি দানা দিয়ে ঠাসা আর ওজনে ভারী করতে চান, তবে প্রথাগত পদ্ধতির বাইরে এসে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে চাষ করা প্রয়োজন। আসুন জেনে নিই, জমি তৈরি থেকে ফসল কাটা পর্যন্ত কীভাবে প্রতিটি ধাপে আপনি আপনার গমের সর্বোচ্চ ফলন নিশ্চিত করবেন।

ধাপ ১: জমি প্রস্তুতি ও মাটি শোধন (ভিত্তি মজবুত করা)

ফসল কতটা ভালো হবে তার ৮০ শতাংশ নির্ভর করে মাটির স্বাস্থ্যের ওপর। মাটি যদি রোগমুক্ত না হয়, তবে দামী বীজ বুনেও লাভ নেই।

কি ব্যবহার করবেন? বিঘা প্রতি ৫০-৬০ কেজি আস্থা ভার্মিকম্পোস্ট, ৫ কেজি আস্থা নিমসুপার এবং ১ কেজি আস্থা টি.ভি. (Trichoderma Viridi)
কেন ব্যবহার করবেন? নিমসুপার উইপোকা ও কৃমি দমনে এবং টি.ভি. মাটির ক্ষতিকর ছত্রাক ধ্বংস করে গোড়া পচা রোধে কাজ করে।
না করলে কি হবে? মাটির নিচের পোকা ও ছত্রাক চারা গজানোর আগেই শিকড় কেটে দেবে, ফলে গাছ হলুদ হয়ে মারা যাবে।

ধাপ ২: বীজ শোধন (প্রাথমিক শক্তি)

বীজ হলো ফসলের প্রাণ। তাকে শোধন না করা মানে হলো যুদ্ধের আগে সৈন্যকে অস্ত্র না দেওয়া।

  • কি করবেন: বপনের আগে প্রতি কেজি বীজে ৫ মিলি করে আস্থা অ্যাজো (Azotobacter) এবং আস্থা পি.এস.বি. (PSB) মাখিয়ে নিন।
  • 💡 কেন করবেন: অ্যাজো বাতাস থেকে নাইট্রোজেন সংগ্রহ করে চারার বৃদ্ধি দ্রুত করে এবং পি.এস.বি. মাটির শক্ত ফসফরাসকে গলিয়ে চারার পুষ্টি নিশ্চিত করে।
  • উপকারিতা: চারা দ্রুত গজাবে, শেকড় মজবুত হবে এবং সারের খরচ শুরুতেই ২৫% কমে যাবে।

ধাপ ৩: কুশি ও বাড়ন্ত অবস্থা (ফলন নির্ধারণী পর্যায়)

গমে যত বেশি সুস্থ কুশি (Tillers) আসবে, শীষের সংখ্যা তত বাড়বে।

প্রয়োজনীয় পণ্য: বিঘা প্রতি ১ লিটার আস্থা বায়ো এন.পি.কে (Bio NPK) এবং ২০ কেজি আস্থা প্রম (PROM)

কার্যকারিতা: আস্থা প্রম হলো ডিএপি-র জৈব বিকল্প যা গাছের হাড় বা কাঠামো মজবুত করে। আর বায়ো এন.পি.কে গাছকে সুষম পুষ্টি দিয়ে ঘন সবুজ করে তোলে।

⚠️ না করলে কি হবে: গাছ ফ্যাকাশে হয়ে যাবে এবং কুশির সংখ্যা কম হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ফলন অনেক কমে যাবে।

ধাপ ৪: ফসলের জৈব সুরক্ষা (নিরাপদ বর্ম)

রাসায়নিক বিষ ফসলের ও মাটির ক্ষতি করে, তাই আস্থা’র জৈব সুরক্ষা পদ্ধতি এখানে সেরা।

আস্থা বি গার্ড (Beauveria Bassiana)

এটি জাব পোকা বা লেদা পোকা দমনে কার্যকর। এই উপকারী ছত্রাক পোকার গায়ে লেগে তাকে ভেতর থেকে নিস্তেজ করে মেরে ফেলে।

আস্থা এম ফাইটার (Metarhizium)

এটি বিশেষ করে উইপোকা ও মাটির নিচে থাকা অন্যান্য ক্ষতিকর পোকা দমনে জাদুর মতো কাজ করে। এটি সম্পূর্ণ বিষমুক্ত।

ধাপ ৫: দানা পুষ্ট হওয়া (শীষের ওজন বাড়ানো)

শীষ আসার পর পটাশ এবং মাইক্রো-নিউট্রিয়েন্টের অভাব হলে দানা ছোট বা হালকা হয়ে যায়।

📍 আস্থা কে.এম.বি (KMB): এটি পটাশ সঞ্চালক জীবাণু। এটি মাটির পটাশকে সরাসরি দানায় নিয়ে যেতে সাহায্য করে, ফলে গমের দানা চকচকে, ওজনে ভারী এবং পুষ্ট হয়।

বেনিফিট: এটি গাছকে খরা বা অতিরিক্ত ঠান্ডার হাত থেকে রক্ষা করে এবং বাজারের অন্যান্য গমের চেয়ে আপনার গমের মান বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

চাষি ভাইদের জন্য অর্থনৈতিক বার্তা

সঠিক সময়ে গমের এই জৈব ও বায়ো (Bio) চক্রটি সম্পূর্ণ করলে আপনার সারের খরচ প্রায় ২৫-৩০% সাশ্রয় হবে। সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে আপনার জমি যেমন বাঁচবে, তেমনি আপনার পকেটও সমৃদ্ধ হবে।

লিলা এগ্রোটেক প্রাইভেট লিমিটেড

📍 সুপ্রভাত অ্যাপার্টমেন্ট, পি-৪৭৬ বাসুনগর, মধ্যমগ্রাম, কলকাতা - ৭০০১২৯

📞 টোল ফ্রি: ১৮০০-৮৩৩-৯৪০০

আমাদের ওয়েবসাইট দেখুন

বাংলার সকল পান চাষিদের জন্য বিশেষ পরামর্শ

সুস্থ ও সবল পানের বরজ

চিত্র: একটি আদর্শ পানের বরজ যেখানে সতেজ লতা ও সারের ব্যবহার দৃশ্যমান।

মেদিনীপুরের কাঁথি অঞ্চলের সেই পান চাষি ভাইসহ বাংলার সকল পান চাষিদের জন্য বিশেষ পরামর্শ।

পানের লতা দ্রুত বড় করা এবং শিকড় মজবুত করার সিক্রেট টিপস!

মেদিনীপুরের কাঁথি হোক বা দক্ষিণবঙ্গের যেকোনো প্রান্ত—পান চাষ আমাদের অনেক চাষি ভাইদের প্রধান জীবিকা। কিন্তু সম্প্রতি অনেকেই একটি সমস্যার কথা বলছেন, "পানের পাতা ঠিকমতো বড় হচ্ছে না, লতা বাড়ছে না, আর শিকড়ও যেন মাটির গভীরে যাচ্ছে না।"

পানের বরজ যদি ঠিকমতো না হাসে, তবে চাষির মুখে হাসি ফোটা কঠিন। আজকের ব্লগে আমরা আলোচনা করব কীভাবে বৈজ্ঞানিক ও জৈব পদ্ধতিতে পানের বৃদ্ধি কয়েক গুণ বাড়িয়ে তোলা সম্ভব।

📉 ১. শিকড় কেন বাড়ছে না? এবং এর সমাধান

পানের লতা তখনই পুষ্ট হবে যখন তার শিকড় বা 'মূল' শক্তিশালী হবে। শিকড় দুর্বল হওয়ার প্রধান কারণ হলো মাটির শক্ত ভাব এবং ছত্রাকের আক্রমণ।

  • 📍 মাটি আলগা করা: পানের গোড়ার মাটি খুব শক্ত হয়ে গেলে শিকড় অক্সিজেন পায় না। তাই হালকাভাবে মাটি নিড়িয়ে ঝুরঝুরে করে দিন।
  • 📍 শিকড় গজানোর জাদুকরী উপায়: শিকড় দ্রুত ছাড়াতে এবং মাটির গঠন উন্নত করতে ভালো মানের হিউমিক অ্যাসিড ব্যবহার করুন। এটি মাটির 'সাদা শিকড়' বা খাবার সংগ্রহকারী শিকড় বৃদ্ধিতে দারুণ কাজ করে।
  • 📍 ছত্রাক থেকে সুরক্ষা: শিকড় পচা রোধ করতে ট্রাইকোডার্মা ভিরিডি ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। এটি মাটির ক্ষতিকর ছত্রাক ধ্বংস করে শিকড়কে নিরাপদ রাখে।

🍃 ২. পানের পাতা ও লতা বড় করার উপায়

আপনার পানের পাতা যদি ছোট আর ফ্যাকাশে হয়, তবে বুঝতে হবে গাছে পুষ্টির অভাব রয়েছে।

  • 🌱 খৈল পচা জল: সরিষার খৈল ৪-৫ দিন জলে পচিয়ে সেই স্বচ্ছ জলটি পাতলা করে গোড়ায় দিন। এটি পানের জন্য সবথেকে ভালো প্রাকৃতিক খাবার।
  • 🌱 অণুখাদ্যের অভাব পূরণ: অনেক সময় দস্তা (Zinc) বা বোরন (Boron)-এর অভাবে পাতার আকার বাড়ে না। এক্ষেত্রে ১৫ দিন অন্তর একবার ভালো মানের লিকুইড অণুখাদ্য স্প্রে করলে পাতা হবে বড় এবং চকচকে।
  • 🌱 সঠিক জল সেচ: পানের বরজে কখনোই জল জমতে দেবেন না। আবার মাটি যেন একদম শুকিয়ে পাথর না হয়ে যায়। আর্দ্রতা বজায় রাখলে লতা দ্রুত বাড়ে।

৩. পান চাষিদের সেরা সমাধান: "আস্থা" ভার্মিকম্পোস্ট

মাটির স্বাস্থ্য ফেরাতে এবং পানের বাড়বাড়ন্ত নিশ্চিত করতে আপনি ভরসা রাখতে পারেন আমাদের 'আস্থা' (Astha) ব্র্যান্ডের ওপর।

কেন 'আস্থা' ভার্মিকম্পোস্ট পানের জন্য সেরা?
  • ✔️ মাটির জল ধারণ ক্ষমতা বাড়ায়।
  • ✔️ শিকড় খুব দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
  • ✔️ পাতার আকার প্রাকৃতিকভাবে বড় হয় এবং পানের গুণমান উন্নত হয়।

এছাড়াও পানের ডগা শুকানো বা শিকড় বৃদ্ধিতে সমস্যার জন্য আমাদের 'আস্থা' রেঞ্জের বিশেষ ছত্রাকনাশক ও গ্রোথ প্রমোটারগুলো কাঁথির অনেক চাষি ভাই ব্যবহার করে উপকৃত হচ্ছেন।

পান চাষ একটি সাধনার কাজ। সঠিক পরিচর্যা আর 'আস্থা'-র মতো সঠিক সারের সমন্বয় থাকলে আপনার বরজ হবে মেদিনীপুরের সেরা।

আপনার কি পান চাষ নিয়ে আরও কিছু জানার আছে? নিচে কমেন্ট করুন। আমরা আপনার পাশে আছি। 🌾🍃

১২ মার্চ ২০২৬

ড্রাগন ফল গাছের ডাঁটার লম্বা ফাটা ও পচা ক্ষত

আপনার দেওয়া ছবিগুলো খুব ভালো করে দেখলে বোঝা যাচ্ছে এটি ড্রাগন ফল গাছের ডাঁটার লম্বা ফাটা ও পচা ক্ষত। ক্ষত জায়গা শুকিয়ে বাদামী/কালচে হয়ে ভেতরটা পচে গেছে এবং কিছু জায়গায় টিস্যু নষ্ট হয়ে গর্তের মতো হয়েছে

 


এটি সাধারণত Stem Canker / Stem Rot (ছত্রাকজনিত রোগ) অথবা যান্ত্রিক আঘাতের পর ছত্রাক সংক্রমণ হলে এমন হয়।

ড্রাগন ফলের স্টেম ক্যান্কার পচা রোগ: কারণ প্রতিকারের সম্পূর্ণ গাইড

ড্রাগন ফল চাষে বর্তমান সময়ে চাষীদের কাছে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হলো গাছের ডাঁটায় লম্বা ফাটা দাগ এবং পচা ক্ষত। আপনার বাগানের ড্রাগন ফল গাছের ডাঁটাগুলো যদি ভালো করে লক্ষ্য করেন, তবে দেখবেন অনেক সময় সেখানে লম্বাটে ফাটা অংশ তৈরি হচ্ছে, যা পরবর্তীকালে বাদামী বা কালচে হয়ে ভেতরে পচে যাচ্ছে। এই সমস্যাটি মূলত Stem Canker বা Stem Rot (ছত্রাকজনিত রোগ) সঠিক সময়ে ব্যবস্থা না নিলে এটি পুরো বাগান ধ্বংস করে দিতে পারে।


🚨 ড্রাগন চাষীদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা (Hook)

অনেকে মনে করেন ড্রাগন গাছের এই ফাটা দাগগুলো হয়তো রোদে পোড়া বা সাধারণ কোনো পোকার কাজ। কিন্তু আসল সত্য হলোএটি একটি মারাত্মক ফাঙ্গাস আক্রমণ। দ্রুত চিকিৎসা না করলে এই পচন ডাঁটা থেকে গোড়া পর্যন্ত পৌঁছে গাছটিকে মেরে ফেলতে পারে।


🔍 সমস্যাটি কেন হয়? (মূল কারণসমূহ)

ছবি লক্ষণ বিশ্লেষণ করলে এই রোগের তিনটি প্রধান কারণ সামনে আসে:

  1. যান্ত্রিক আঘাত (Mechanical Injury): গাছ বাঁধার সময় তার বা দড়ির ঘর্ষণ, খুঁটির সাথে চাপা লাগা বা ঝড়ে ডাঁটা আঘাতপ্রাপ্ত হলে সেই ক্ষতস্থান দিয়ে ছত্রাক সহজেই প্রবেশ করে।
  2. অতিরিক্ত আর্দ্রতা ছত্রাক: জমিতে জল জমে থাকা, টানা বৃষ্টি বা ঘন বাগান হওয়ার কারণে বাতাস চলাচল কম হলে Neoscytalidium dimidiatum নামক ছত্রাক দ্রুত ছড়ায়।
  3. পুষ্টির অভাব: বিশেষ করে গাছে ক্যালসিয়াম পটাশিয়ামের ঘাটতি থাকলে ডাঁটার টিস্যু দুর্বল হয়ে ফেটে যায়।

🛠️ তাৎক্ষণিক সমাধান: কী করবেন?

রোগ দেখা দিলে বসে না থেকে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:

. আক্রান্ত অংশ পরিষ্কার করা:

একটি ধারালো জীবাণুমুক্ত ছুরি দিয়ে পচা অংশটি চেঁছে ফেলে দিন। যতক্ষণ না সুস্থ সবুজ অংশ বের হচ্ছে, ততক্ষণ পরিষ্কার করুন। কাটা অংশটি রোদে শুকোতে দিন।

. কপার পেস্ট প্রয়োগ:

ক্ষতস্থানে ছত্রাকনাশকের প্রলেপ দিতে হবে।

  • সুপারিশ: Astha Cure (Copper Oxychloride 50%)
  • ব্যবহার: ১০ গ্রাম পাউডারের সাথে সামান্য জল মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করে ক্ষতে লাগিয়ে দিন।

. ছত্রাকনাশক স্প্রে:

পুরো গাছকে সুরক্ষিত রাখতে সিস্টেমিক ছত্রাকনাশক ব্যবহার জরুরি।

  • Astha Hexa Plus (Hexaconazole 5% SC) — মিলি / লিটার জল।
  • অথবা Astha Thor (Tebuconazole 25.9 EC) — . মিলি / লিটার জল।

টিপস: -১০ দিন অন্তর অন্তত দুবার স্প্রে করুন।


🌱 মাটির স্বাস্থ্য দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা (Organic Solution)

মাটিতে থাকা ক্ষতিকর ফাঙ্গাস দমন করতে জৈব পদ্ধতি সবচেয়ে কার্যকর। এতে গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

  • উপকারী জীবাণু প্রয়োগ: প্রতি গাছে ৫০-১০০ গ্রাম ASTHA TV (Trichoderma viride) অথবা ASTHA TH (Trichoderma harzianum) ব্যবহার করুন। এটি মাটির পচন রোধ করে।
  • মাটির শোধন: ভালো ফলের জন্য ASTHA PF (Pseudomonas fluorescens) ব্যবহার করুন। এটি শিকড়কে শক্তিশালী করে এবং ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন কমায়।
  • প্রয়োগ পদ্ধতি: এই জৈব উপাদানগুলো Astha Premium Vermicompost-এর সাথে মিশিয়ে গাছের গোড়ায় দিলে সবথেকে ভালো ফল পাওয়া যায়।

🌿 রোগ প্রতিরোধের আগাম উপায় (Preventive Measures)

  • গাছ বাঁধার সময় তারের বদলে নরম সুতির কাপড় বা প্লাস্টিক ফিতা ব্যবহার করুন।
  • বাগানে যেন কখনোই জল না জমে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
  • নিয়মিত ব্যবধানে Astha Sulfa Cure (Calcium Polysulphide) স্প্রে করুন ( মিলি / লিটার জল) এটি ছত্রাক মাকড় উভয়কেই দূরে রাখে।

আদর্শ রোগ ব্যবস্থাপনা চার্ট (Quick Summary)

ধাপ

করণীয়

প্রয়োজনীয় পণ্য

. সার্জারি

পচা অংশ কাটা পরিষ্কার করা

ধারালো ছুরি

. প্রোলেপ

ক্ষতস্থানে পেস্ট লাগানো

Astha Cure

. স্প্রে

পুরো গাছে ছত্রাকনাশক দেওয়া

Astha Hexa Plus / Thor

. সয়েল ট্রিটমেন্ট

মাটির জীবাণু ধ্বংস করা

ASTHA TV / ASTHA PF

শেষ কথা:

ড্রাগন ফল চাষে ধৈর্য এবং সঠিক পরিচর্যাই সাফল্যের চাবিকাঠি। আপনার বাগানের গাছগুলোকে রোগমুক্ত শক্তিশালী রাখতে আজই ব্যবহার করুন লীলা এগ্রোটেকের ভরসাযোগ্য ASTHA সিরিজের পণ্যসমূহ। সঠিক চিকিৎসায় আপনার ড্রাগন গাছ আবার হয়ে উঠবে সতেজ ফলবতী।