মাল্টা চাষে জুন মাসের ব্যবস্থাপনা

পূর্ণবয়স্ক ফলন্ত মাল্টা চাষে জুন মাসের খাদ্য সুষমকরণ ও বিশেষ বালাই ব্যবস্থাপনা গাইড

"আপনার মাল্টা বাগানে কি সুন্দর মার্বেল বা লেবু সাইজের গুটি সেট হয়েছে? জুন মাসের এই বর্ষার শুরুতে পূর্ণবয়স্ক ফলন্ত গাছের সঠিক বৃদ্ধি এবং পুষ্টির জন্য সুষম সার ও সঠিক যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সঠিক নিয়মে খাদ্য না দিলে এই সময়ে ফল ঝরে পড়া বা ফল ফেটে যাওয়ার মতো বড় লোকসান হতে পারে। আজ বিস্তারিত জানবো এই সময়ে কি পরিমাণ ভার্মিকম্পোস্ট দেবেন এবং কি কি বিশেষ পরিচর্যা অবলম্বন করবেন।"

ফলন্ত মাল্টা গাছ
চিত্র ১: মার্বেল থেকে লেবু সাইজের গুটিসহ পূর্ণবয়স্ক সুগঠিত মাল্টা গাছ

১. ভার্মিকম্পোস্ট ও অন্যান্য জৈব সারের সঠিক পরিমাণ

এই বয়সের একটি ফলন্ত মাল্টা গাছের জন্য গাছের গোড়া থেকে অন্তত ১.৫ থেকে ২ ফুট দূরে চারপাশ গোল করে রিং বা নালা কেটে সার দিতে হবে। প্রতি গাছের জন্য সুষম মাত্রা নিচে দেওয়া হলো:

প্রাকৃতিক জৈব পুষ্টি উপাদান
  • ভার্মিকম্পোস্ট (Vermicompost): Astha Vermicompost ৫ থেকে ৭ কেজি প্রতি গাছে (এটি মাটির গঠন উন্নত করবে এবং ফল ঝরে পড়া রোধ করবে)।
  • হাড়ের গুঁড়ো (Bone meal): ৫০০ গ্রাম।
  • শিং কুচি (Horn meal): ৫০০ গ্রাম।
  • নিম খৈল: Astha Neem Super ২০০ গ্রাম (এটি গাছের গোড়ায় কৃমি বা ক্ষতিকর মাটির পোকার আক্রমণ রোধ করবে)।
প্রয়োগ পদ্ধতি: গাছের ক্যানোপি বা ছায়ার শেষ প্রান্ত বরাবর মাটির উপরিভাগ ৩-৪ ইঞ্চি হালকা কুপিয়ে এই সারগুলো মাটির সাথে ভালো করে মিশিয়ে দিন। সার দেওয়ার পর মাটি যদি শুকনো থাকে, তবে হালকা জল সেচ নিশ্চিত করুন।

মাল্টা গাছের ডাল ও আগাছা ব্যবস্থাপনা
চিত্র ২: ফলন্ত ডালের সুরক্ষায় বাঁশের খুঁটির সাপোর্ট এবং নিড়ানি ব্যবস্থাপনা 

২. রাসায়নিক ও অনুখাদ্য (Micronutrient) সার ব্যবস্থাপনা

ফল বড় হওয়ার এই প্রধান সময়ে শুধু জৈব সার যথেষ্ট নয়। ফলের সাইজ ও মিষ্টিভাব বাড়ানোর জন্য কিছু সুষম রাসায়নিক ও অনুখাদ্য উপাদান দেওয়া প্রয়োজন:

রাসায়নিক ও ফোলিয়ার স্প্রে

ক) মূল সার (গোড়ায় দেওয়ার জন্য):

  • ১০:২৬:২৬ (NPK) অথবা Astha PROM (Phosphate Rich Organic Manure) সার: ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম প্রতি গাছে।
  • পটাশ সার (MOP): ১৫০ গ্রাম (এটি ফলের খোসা শক্ত করতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে)।
  • ম্যাগনেসিয়াম সালফেট: ৫০ গ্রাম।

খ) স্প্রে করার জন্য (ফোলিয়ার অ্যাপ্লিকেশন):

মাল্টা বা সাইট্রাস জাতীয় গাছে এই সময়ে জিঙ্ক ও বোরনের অভাব খুব বেশি দেখা যায়, যার ফলে ফল ফেটে যেতে পারে বা ঝরে পড়তে পারে।

  • বোরন (Solubor Boron): প্রতি লিটার জলে ২ গ্রাম ASTHA MAX BOR।
  • চিলেটেড জিঙ্ক (Chelated Zinc): প্রতি লিটার জলে ১ গ্রাম Astha POWER ZED।

* এই দুটি উপাদান একত্রে মিশিয়ে বিকেলের দিকে পুরো গাছে ভালোভাবে স্প্রে করে দিন।

মাল্টা বাগানের নিকাশি ব্যবস্থা
চিত্র ৩: মাল্টা বাগানের চারপাশের জল নিকাশি নালা ও ক্যানোপি বিন্যাস

৩. বর্তমান রোগ, পোকা ও অন্যান্য জরুরি বালাই ব্যবস্থাপনা

বর্ষার এই স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়ায় মাল্টা বাগানের সুরক্ষায় নিচের বিশেষ টেকনিক্যাল পদক্ষেপগুলো অবশ্যই অবলম্বন করতে হবে:

  • ডাইব্যাক (Die-back) ও ছত্রাক আক্রমণ নিয়ন্ত্রণ: বর্ষায় সাইট্রাস গাছে ডাল শুকানো রোগ এবং ক্যাঙ্কার (Canker) দেখা দেয়। এর প্রতিকারের জন্য একটি ভালো মানের  কপার অক্সিক্লোরাইড (Astha Cure) ছত্রাকনাশক অথবা জৈব ছত্রাকনাশক আস্থা ট্রাইকোডার্মা ভিরিডি (Astha Trichoderma Viride) ব্যবহার করতে পারেন।
  • লেবুর প্রজাপতি বা শুঁয়োপোকা (Lemon Butterfly Caterpillar) দমন: এরা কচি পাতা খেয়ে ফেলে। আক্রমণ বেশি হলে ক্লোরপাইরিফস বা সাইপারমেথ্রিন (Astha Knight) গ্রুপের কীটনাশক অথবা প্রাকৃতিক নিম-ভিত্তিক কীটনাশক (Astha Kiler) স্প্রে করতে হবে।
  • আগাছা পরিষ্কার: গাছের গোড়ার চারপাশে যে আগাছা জন্মেছে, সেগুলো দ্রুত পরিষ্কার করে দিন। কারণ এই আগাছাগুলো আপনার দেওয়া বহুমূল্য সার ও পুষ্টি শুষে নেবে এবং ক্ষতিকর পোকা-মাকড়ের আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করবে।
  • জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা: বর্ষার জল যেন কোনোভাবেই গাছের গোড়ায় জমে না থাকে। মাল্টা গাছ গোড়ায় জল জমা একদম সহ্য করতে পারে না। তাই বাগানে সবসময় সুনির্দিষ্ট জল নিকাশি নালা তৈরি রাখুন।
  • গাছের প্রপ বা খুঁটি দেওয়া: ফল বড় ও ভারী হলে ডাল যাতে ওজনের চোটে ভেঙে না যায়, সেজন্য ভারী ও ফলন্ত ডালগুলোতে ভালো করে বাঁশের খুঁটি বা প্রপ দিয়ে সাপোর্ট নিশ্চিত করুন।