১৩ ডিসেম্বর ২০২৪

রসুনের চাষ এবং পরিচর্যা

 রসুন চাষ একটি জনপ্রিয় কৃষি প্রক্রিয়া, যা সঠিক পরিচর্যা এবং সার ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে। এখানে রসুনের কান্ড বড় করার জন্য সঠিক পদ্ধতি এবং Astha ব্র্যান্ডের বিভিন্ন পণ্য ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হলো।

রসুনের চাষের জন্য পদ্ধতি:

  1. অর্গানিক পদ্ধতি:

    • Astha Vermicompost: রোপণের পর প্রথম ৭ দিনে প্রতি গাছের গোড়ায় ৫০-১০০ গ্রাম

      ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহার করুন। এটি মাটি উর্বরতা বৃদ্ধি করে এবং গাছের বৃদ্ধি উৎসাহিত করে। প্রতি ১৫-২০ দিন অন্তর পুনরায় ৫০-১০০ গ্রাম ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহার করুন।
    • Astha Neem Super: সপ্তাহে ১ বার ৫ গ্রাম Neem Super ১ লিটার জলে মিশিয়ে গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করুন। এটি মাকড়সা, পোকামাকড়, এবং অন্যান্য ক্ষতিকর প্রাণীর প্রাদুর্ভাব কমাতে সাহায্য করে।
    • Astha PROM (Phosphate Rich Organic Manure): প্রতিটি গাছের গোড়ায় ১৫-২০ দিন অন্তর ২৫-৫০ গ্রাম PROM সার প্রয়োগ করুন। এটি মাটিতে ফসফরাসের পরিমাণ বাড়িয়ে গাছের কান্ড বড় ও মজবুত করে।
    • Astha KMB (Potassium Mobilizing Bio Fertilizer): রোপণের ১৫-২০ দিন পরে প্রতিটি গাছের গোড়ায় ১০-২০ গ্রাম KMB প্রয়োগ করুন। এটি মাটির পটাশের অম্লতা কমায় এবং কান্ডের শক্তি বাড়ায়।
    • Astha AZO: প্রতি মাসে একবার ২-৫ গ্রাম AZO ১ লিটার জলে মিশিয়ে স্প্রে করুন। এটি মাটি থেকে অম্লতা দূর করতে সাহায্য করে এবং গাছের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে।
  2. অর্গানিক এবং কেমিক্যাল মিশ্রণ পদ্ধতি:

    • প্রথম ৭-১০ দিনে প্রতি গাছের গোড়ায় ৫০-১০০ গ্রাম ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহার করুন।
    • ১০-১৫ দিন পর ৫ গ্রাম ইউরিয়া ও ৫ গ্রাম পটাশ ১ লিটার জলে মিশিয়ে গাছের গোড়ায় দিন।
    • ২০-৩০ দিন পর ১০ গ্রাম ফসফেট সার ২ লিটার জলে মিশিয়ে স্প্রে করুন।
    • মাসে একবার ৫০% অর্গানিক সার (যেমন গোবর বা ভার্মি কম্পোস্ট) এবং ৫০% কেমিক্যাল সার মিশিয়ে গাছের গোড়ায় দিন।
  3. সারকার্য এবং রসুনের চাষের জন্য কেমিক্যাল পদ্ধতি:

    • ৫ গ্রাম ইউরিয়া ১ লিটার জলে মিশিয়ে স্প্রে করুন।
    • ১০-১৫ দিন পর ১০ গ্রাম ডি.এ.পি. এবং ৫ গ্রাম পটাশ ১ লিটার জলে মিশিয়ে গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করুন।
    • মাসে একবার সালফার স্প্রে করুন।

Astha ব্র্যান্ডের পণ্য ব্যবহারের নির্দেশনা:

  • Astha Vermicompost: রোপণের পর প্রথম ৭ দিনে ৫০-১০০ গ্রাম ভার্মি কম্পোস্ট প্রয়োগ করুন এবং প্রতি ১৫-২০ দিন অন্তর পুনরায় প্রয়োগ করুন।
  • Astha Neem Super: সপ্তাহে ১ বার ৫ গ্রাম Neem Super ব্যবহার করুন।
  • Astha PROM: প্রতিটি গাছের গোড়ায় ১৫-২০ দিন অন্তর ২৫-৫০ গ্রাম PROM সার প্রয়োগ করুন।
  • Astha KMB: রোপণের ১৫-২০ দিন পরে ১০-২০ গ্রাম KMB প্রয়োগ করুন।
  • Astha AZO: প্রতি মাসে একবার ২-৫ গ্রাম AZO স্প্রে করুন।
  • Astha Killer (10000 PPM Neem Pesticide): রসুনে পোকামাকড় বা রোগ দেখা দিলে ১০-১৫ দিন পর একবার ৫-১০ মিলি Astha Killer ১ লিটার জলে মিশিয়ে স্প্রে করুন।
  • Astha Takshak (Chemical Pesticide): শুধুমাত্র যখন অত্যন্ত প্রয়োজন হয়, মাটি বা পাতায় স্প্রে করতে ৩-৫ গ্রাম Takshak ১ লিটার জলে মিশিয়ে প্রয়োগ করুন।

এই পদ্ধতির মাধ্যমে রসুনের চাষে সঠিক পরিচর্যা ও সার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে গাছের কান্ড বড় এবং স্বাস্থ্যবান হবে।

১২ ডিসেম্বর ২০২৪

একনজরে দেখে নিন - Astha AZO (Azotobacter) Bio Fertilizer কোন কোন ফসলে ব্যবহার করা যাবে? পাউডার ফর্মে কোন ফসলে, কতটা পরিমানে এবং কি ভাবে ব্যবহার করতে হবে? লিকুইড ফর্মে কোন ফসলে, কতটা পরিমানে এবং কি ভাবে ব্যবহার করতে হবে? এটা ব্যবহার করলে কি উপকার হবে?

 

আস্থা এজো (অ্যাজোটোব্যাক্টার) বায়ো ফার্টিলাইজার: ব্যবহার ও উপকারিতা

আস্থা এজো হল একটি জৈব সার যা মূলত অ্যাজোটোব্যাক্টার নামক ব্যাকটেরিয়া দিয়ে তৈরি। এই ব্যাকটেরিয়াটি বায়ুমণ্ডলীয় নাইট্রোজেনকে গাছের জন্য উপযোগী করে তোলে।

কী ধরনের ফসলে ব্যবহার করা যায়?

আস্থা এজো প্রায় সব ধরনের ফসলে ব্যবহার করা যায়। এটি বিশেষভাবে উপকারী:

খাদ্যশস্য:

  • ধান, গম, যব, ভুট্টা, জোয়ার, বাজরা প্রভৃতি।

ডাল শস্য:

  • ছোলা, মসুর, মটর, মুগ, সয়াবিন, মাস কলাই, কোশ প্রভৃতি।

তৈলবীজ:

  • বাদাম, সূর্যমুখী, সরষে, তিল, অর্জুন প্রভৃতি।

সব্জী :

  • টমেটো, আলু,পেঁয়াজ, বাঁধাকপি , ফুলকপি, বেগুন, লঙ্কা, কাকর, কুমড়া, পালং শাক, লেটুস, মূলা, গাজর, চুকন্দর, ধনেপাতা প্রভৃতি।

ফল:

  • আম, আপেল, কলা, লেবু-জাতীয় ফল (লেবু, কমলা, গ্রেপফ্রুট), আঙ্গুর, পেয়ারা, পেঁপে, ডালিম, তরমুজ প্রভৃতি।

নগদ ফসল:

  • কপাস (Cotton) , পাকি(বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল), আখ, তামাক প্রভৃতি।

অন্যান্য ফসল:

  • কফি, চা, রাবার, মসলা (লংকা , এলাচ, লবঙ্গ) প্রভৃতি।

পাউডার ফর্মে ব্যবহার

  • কত পরিমাণে: 
  • প্রতি হেক্টর জমিতে 2-3 কেজি পাউডার।
  • প্রতি বিঘাতে প্রায় 1 কেজি পাউডার ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • টবে ব্যবহার

    টবের ক্ষেত্রে পরিমাণ নির্ধারণ করা কিছুটা জটিল, কারণ টবের আকার ও গভীরতা ভিন্ন হতে পারে। তবে, একটি সাধারণ ধারণা দেওয়া যাক:

    • ছোট টব: 100-200 গ্রাম
    • মাঝারি টব: 200-300 গ্রাম
    • বড় টব: 300-500 গ্রাম

    কীভাবে পরিমাণ নির্ধারণ করবেন:

    1. টবের আকার ও গভীরতা পরিমাপ করুন: টবের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং গভীরতা পরিমাপ করে তার আয়তন বের করুন।
    2. মাটির পরিমাণ নির্ধারণ করুন: টবের আয়তন থেকে মাটির আয়তন বের করুন।
    3. প্রতি ঘনফুট মাটির জন্য পাউডারের পরিমাণ: সাধারণত প্রতি ঘনফুট মাটির জন্য 5-10 গ্রাম পাউডার ব্যবহার করা হয়।
    4. পরিমাণ নির্ধারণ: মাটির আয়তন এবং প্রতি ঘনফুট মাটির জন্য পাউডারের পরিমাণের ভিত্তিতে আপনি প্রয়োজনীয় পাউডারের পরিমাণ নির্ধারণ করতে পারবেন।

    উদাহরণ:

    • যদি আপনার একটি টবে 5 ঘনফুট মাটি থাকে এবং আপনি প্রতি ঘনফুট মাটির জন্য 8 গ্রাম পাউডার ব্যবহার করেন, তাহলে আপনাকে 5 ঘনফুট x 8 গ্রাম/ঘনফুট = 40 গ্রাম পাউডার ব্যবহার করতে হবে।
  • কীভাবে:
    • বীজ চাষের আগে বীজকে পাউডারের সাথে মিশিয়ে চাষ করুন।
    • চারা রোপণের সময় গর্তে পাউডার ছিটিয়ে দিন।
    • জমিতে চাষের সময় পাউডার ছিটিয়ে দিয়ে তারপর জমি চাষ করুন।

লিকুইড ফর্মে আস্থা এজো ব্যবহার: পরিমাণ নির্ধারণ

আপনি যখন লিকুইড ফর্মে আস্থা এজো ব্যবহার করবেন, তখন সাধারণত প্রতি লিটার জলে 5 মিলিলিটার লিকুইড মিশিয়ে স্প্রে করা হয়। তবে, বিঘা বা টবের ক্ষেত্রে সঠিক পরিমাণ নির্ধারণের জন্য আরও কিছু বিষয় বিবেচনা করতে হবে।

বিঘাতে ব্যবহার

  • প্রতি বিঘাতে কত জলের প্রয়োজন: এটি নির্ভর করবে ফসলের ধরন, মাটির ধরন এবং আবহাওয়ার উপর।
  • স্প্রে করার পদ্ধতি: আপনি হাতে স্প্রে করবেন নাকি মেশিনের সাহায্যে, তার উপরও পরিমাণ নির্ভর করবে।

উদাহরণ:

  • ধরুন, আপনি একটি বিঘা জমিতে 200 লিটার জল স্প্রে করবেন।
  • প্রতি লিটার জলে 5 মিলিলিটার লিকুইড মিশাতে হবে।
  • সুতরাং, মোট 200 লিটার জলের জন্য 200 x 5 = 1000 মিলিলিটার বা 1 লিটার লিকুইড ফার্টিলাইজার প্রয়োজন হবে।

টবে ব্যবহার

  • টবের আকার: টবের আকারের উপর নির্ভর করে জলের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে।
  • গাছের ধরন: ছোট গাছের জন্য কম এবং বড় গাছের জন্য বেশি জল প্রয়োজন হতে পারে।

উদাহরণ:

  • ধরুন, আপনার একটি মাঝারি আকারের টবে একটি টমেটো গাছ আছে।
  • আপনি টবে প্রায় 2 লিটার জল স্প্রে করবেন।
  • সুতরাং, 2 লিটার জলের জন্য 2 x 5 = 10 মিলিলিটার লিকুইড ফার্টিলাইজার প্রয়োজন হবে।

মনে রাখবেন:

  • আবহাওয়া: গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ায় বেশি এবং ঠান্ডা আবহাওয়ায় কম পরিমাণে স্প্রে করা যেতে পারে।
  • ফসলের পর্যায়: ফুল ফোটার সময় এবং ফল ধরার সময় বেশি পরিমাণে স্প্রে করা যেতে পারে।

সঠিক পরিমাণে ব্যবহার করলে আস্থা এজো আপনার ফসলের উৎপাদন বাড়াতে এবং গাছের স্বাস্থ্য উন্নত করতে সাহায্য করবে।

আস্থা এজো ব্যবহারের উপকারিতা

  • বায়ুমণ্ডলীয় নাইট্রোজেন স্থিরীকরণ: গাছের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান নাইট্রোজেনকে সরাসরি মাটিতে সরবরাহ করে।
  • গাছের বৃদ্ধি: গাছের বৃদ্ধি এবং উৎপাদন বৃদ্ধি করে।
  • মূলের বৃদ্ধি: মূলের বৃদ্ধি ঘটিয়ে পানি ও পুষ্টি শোষণ ক্ষমতা বাড়ায়।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
  • মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি: মাটিতে উপকারী সূক্ষ্মজীবাণুর সংখ্যা বাড়িয়ে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে।
  • পরিবেশবান্ধব: রাসায়নিক সারের তুলনায় পরিবেশবান্ধব।

মনে রাখবেন:

  • আস্থা এজো ব্যবহারের আগে পণ্যের উপর দেওয়া নির্দেশাবলী ভালোভাবে পড়ে নিন।
  • বিভিন্ন ফসল এবং জমির ধরনের জন্য ব্যবহারের মাত্রা ভিন্ন হতে পারে।
  • সর্বোত্তম ফল পাওয়ার জন্য অন্যান্য জৈব সারের সাথে মিশিয়েও ব্যবহার করা যায়।

আপনার ফসলের জন্য সর্বোত্তম ফলাফল পাওয়ার জন্য কোনো কৃষি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন।

আশা করি এই তথ্য আপনার জন্য উপকারী হবে।

২৩ নভেম্বর ২০২৪

গাছের সম্পূর্ণ পুষ্টি কীভাবে নিশ্চিত করবেন?

 গাছের সঠিক বৃদ্ধির জন্য কী ধরনের খাদ্য প্রয়োজন? কেন ভার্মিকম্পোস্ট গাছের সম্পূর্ণ খাদ্য উৎস বলা হয়? ভার্মিকম্পোস্টে কী কী খাদ্য উপাদান পাওয়া যায় এবং কেন এটি গাছের জন্য সেরা উৎস?

গাছের সঠিক বৃদ্ধি এবং উন্নতির জন্য প্রধানত দুই ধরনের পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন:

১. ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্টস (Macro Nutrients):  

  • নাইট্রোজেন (N)
  • ফসফরাস (P)
  • পটাশিয়াম (K)
  • ক্যালসিয়াম (Ca)
  • ম্যাগনেশিয়াম (Mg)
  • সালফার (S)

২. মাইক্রো নিউট্রিয়েন্টস (Micro Nutrients):

  • জিঙ্ক (Zn)
  • আয়রন (Fe)
  • কপার (Cu)
  • বোরন (B)
  • মলিবডেনাম (Mo)
  • ম্যাঙ্গানিজ (Mn)

কেন ভার্মিকম্পোস্ট গাছের সম্পূর্ণ খাদ্য উৎস?

ভার্মিকম্পোস্ট একটি প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি জৈব সার যা গাছের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে। এটি গাছের মাটি উন্নত করে এবং দীর্ঘ সময় ধরে মাটিতে পুষ্টি ধরে রাখে।

ভার্মিকম্পোস্টে যে উপাদানগুলো পাওয়া যায়:

  1. ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্টস: নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম।
  2. মাইক্রো নিউট্রিয়েন্টস: জিঙ্ক, আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ ইত্যাদি।
  3. হিউমিক অ্যাসিড এবং ফ্লুভিক অ্যাসিড: যা মাটির উর্বরতা বাড়ায়।
  4. এনজাইম ও প্রোবায়োটিকস: গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
  5. জৈব পদার্থ: যা মাটির জলধারণ ক্ষমতা উন্নত করে।

ভার্মিকম্পোস্ট কেন সেরা?

  1. এটি ১০০% প্রাকৃতিক এবং কোনো রাসায়নিক পদার্থ নেই।
  2. গাছের জন্য সহজে গ্রহণযোগ্য পুষ্টি সরবরাহ করে।
  3. মাটির গঠন এবং বায়ুচলাচল উন্নত করে।
  4. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে।
  5. এটি মাটির পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখে।

রুফটপ গার্ডেনারদের জন্য টিপস:

  • ভার্মিকম্পোস্ট নিয়মিত ব্যবহার করলে ছাদের গাছগুলো সুস্থ ও সতেজ থাকে।
  • ভার্মিকম্পোস্টের সাথে মাঝে মাঝে নারকেলের ছোবড়ার গুঁড়ো মিশিয়ে মাটির জলধারণ ক্ষমতা বাড়ান।
  • টবের মাটিতে ভার্মিকম্পোস্ট প্রয়োগের সময় টবের নিচে ড্রেনেজ সিস্টেম ঠিক রাখুন।
  • প্রতিটি গাছের জন্য ৫০-১০০ গ্রাম ভার্মিকম্পোস্ট প্রতি মাসে ব্যবহার করুন।

ভার্মিকম্পোস্ট ব্যবহার করলে আপনার গাছগুলো আরও সুন্দর এবং ফলপ্রসূ হবে! 🌱

মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট এবং ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট কী? উদ্ভিদের জন্য এর ভূমিকা এবং প্রয়োজনীয় পরিমাণ


উদ্ভিদের সঠিক বৃদ্ধির জন্য পুষ্টির প্রয়োজন হয়। এই পুষ্টিগুলি প্রধানত দুই ধরনের হয়: ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্টস এবং মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস

ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্টস:

  • অর্থ: এগুলি উদ্ভিদের বড় পরিমাণে প্রয়োজন হয়।
  • উদাহরণ: নাইট্রোজেন (N), ফসফরাস (P), পটাশিয়াম (K), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), সালফার (S)।
  • ভূমিকা:
    • নাইট্রোজেন (N): পাতা ও সবুজ অংশের বৃদ্ধি।
    • ফসফরাস (P): শিকড়ের উন্নতি এবং ফুল ও ফলের গঠন।
    • পটাশিয়াম (K): রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও উদ্ভিদের সার্বিক উন্নতি।
    • ক্যালসিয়াম (Ca): কোষ গঠন ও শক্তিশালী শিকড়।
    • ম্যাগনেসিয়াম (Mg): ক্লোরোফিল তৈরিতে সহায়ক।
    • সালফার (S): প্রোটিন গঠনে সাহায্য করে।
  • প্রয়োজনীয় পরিমাণ: উদ্ভিদের ধরন ও মাটির পুষ্টি অনুসারে পরিবর্তিত হয়, তবে সাধারণত প্রতি হেক্টরে ১০-৩০০ কেজি পর্যন্ত প্রয়োজন।

মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস:

  • অর্থ: এগুলি উদ্ভিদের খুব কম পরিমাণে প্রয়োজন।
  • উদাহরণ: বোরন (B), জিঙ্ক (Zn), লোহা (Fe), ম্যাঙ্গানিজ (Mn), কপার (Cu), মলিবডেনাম (Mo), ক্লোরিন (Cl)।
  • ভূমিকা:
    • বোরন (B): ফুল ও ফলের উন্নতি।
    • জিঙ্ক (Zn): হরমোন তৈরিতে সাহায্য করে।
    • লোহা (Fe): ক্লোরোফিল গঠনে সহায়ক।
    • ম্যাঙ্গানিজ (Mn): ফটোসিন্থেসিস বৃদ্ধি করে।
    • কপার (Cu): প্রোটিন ও এনজাইম তৈরিতে সাহায্য করে।
    • মলিবডেনাম (Mo): নাইট্রোজেনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে।
    • ক্লোরিন (Cl): কোষের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
  • প্রয়োজনীয় পরিমাণ: সাধারণত প্রতি হেক্টরে ১০০-৫০০ গ্রাম।

সুস্থ উদ্ভিদের জন্য সঠিক পুষ্টি সরবরাহের গুরুত্ব

মাটির পুষ্টি পরীক্ষা করে মাইক্রো এবং ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট সঠিক পরিমাণে প্রয়োগ করলে উদ্ভিদের বৃদ্ধি, ফলন এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

ছাদ বাগানকারীদের জন্য মাইক্রো ও ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট ব্যবহারের কিছু পরামর্শ

১. মাটি প্রস্তুত করুন:

  • ছাদের বাগানের জন্য হালকা ও পুষ্টিসমৃদ্ধ মাটির মিশ্রণ ব্যবহার করুন।
  • ভার্মিকম্পোস্ট বা জৈব সার দিয়ে মাটির উর্বরতা বাড়ান।

২. মাইক্রো ও ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্টের সঠিক পরিমাণ ব্যবহার করুন:

  • নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম সমৃদ্ধ সার (যেমন NPK) সঠিক পরিমাণে ব্যবহার করুন।
  • পাতা হলদে বা বিকৃত হলে জিঙ্ক, লোহা, বা ম্যাঙ্গানিজ যুক্ত মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট স্প্রে করুন।

৩. লিকুইড ফার্টিলাইজার ব্যবহার করুন:

  • ছাদের গাছের জন্য তরল সার (লিকুইড ফার্টিলাইজার) ব্যবহার সহজ এবং কার্যকর।
  • উদ্ভিদের পাতা ও শিকড়ের দ্রুত পুষ্টি সরবরাহ নিশ্চিত হয়।

৪. রোগ প্রতিরোধের জন্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ:

  • যদি গাছের পাতা ছোট বা হলুদ দেখায়, মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ঘাটতির লক্ষণ হতে পারে।
  • সময়মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করলে গাছ সুস্থ থাকবে।

৫. জৈব উপাদান ব্যবহার করুন:

  • ভার্মিকম্পোস্ট, জৈব তরল সার, এবং বাড়ির উচ্ছিষ্ট পদার্থের কম্পোস্ট গাছের পুষ্টি সরবরাহে সহায়ক।

৬. পানি ও সার ব্যবস্থাপনা:

  • অতিরিক্ত সার বা পানি দিলে শিকড় পচে যেতে পারে। তাই, ব্যালেন্স বজায় রাখুন।

৭. ছোট জায়গায় সঠিক গাছ নির্বাচন করুন:

  • ছাদ বাগানের জন্য টমেটো, বেগুন, মরিচ, লেটুস বা ফুলের গাছের মতো ছোট ও পুষ্টি-দরকারি গাছ লাগান।

৮. মাটির পুষ্টি পরীক্ষা করুন:

  • ছাদের মাটির পিএইচ পরীক্ষা করে মাইক্রো ও ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্টের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করুন।

সঠিক পদ্ধতিতে মাইক্রো এবং ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট ব্যবহার করলে ছাদের বাগান থেকে সুস্থ এবং ফলপ্রসূ ফসল বা ফুল পাওয়া সম্ভব।

২৯ অক্টোবর ২০২৪

শীতের ফুলের চারা থেকে ফুল ফোটা পর্যন্ত - শীতের ফুলের যত্নে আস্থা রাখুন, ফলাফল পাবেন দারুণ

 

শীতের ফুলের বাগান তৈরি করতে চান? আস্থা প্রোডাক্টগুলো আপনাকে সাহায্য করবে সুন্দর এবং স্বাস্থ্যকর চারা তৈরি করতে এবং ফুল ফোটাতে। আসুন জেনে নিই কখন কোন প্রোডাক্ট ব্যবহার করবেন এবং কেন:

কাটিং থেকে চারা তৈরি এবং অন্তর্বর্তীকালীন পরিচর্যা

  • আস্থা রুট মাস্টার: কাটিংগুলোকে দ্রুত এবং শক্তিশালী মূল তৈরি করতে সাহায্য করে। কাটিংয়ের নিচের অংশকে রুট মাস্টারে ডুবিয়ে মাটিতে লাগান।
  • আস্থা টিভি এবং আস্থা পিএফ: মাটিতে মিশিয়ে বা পাতার উপর স্প্রে করে ব্যবহার করলে মাটি ও গাছকে রোগাক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষা করে।
  • আস্থা ভার্মিকম্পোস্ট: মাটির গুনগত মান বাড়ায় এবং গাছকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি যোগায়।
  • আস্থা নীম সুপার: কীটনাশক হিসেবে কাজ করে এবং গাছকে পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে।

ছোট চারা গাছের দ্রুত এবং সঠিক বৃদ্ধি

গাছে প্রচুর শাখা প্রশাখা এবং ফুল আনা

কীটনাশক হিসেবে

কখন কোন প্রোডাক্ট ব্যবহার করবেন:

  • মাটি তৈরির সময়: আস্থা ভার্মিকম্পোস্ট, আস্থা টিভি এবং আস্থা পিএফ
  • কাটিং লাগানোর সময়: আস্থা রুট মাস্টার
  • চারা গাছের বৃদ্ধির সময়: আস্থা গ্রোথ ব্লাস্টার, অর্গানিক নাইট্রোজেন
  • ফুল আনার সময়: আস্থা গ্রোগোল্ড
  • পোকামাকড়ের আক্রমণের সময়: আস্থা কিলার ১৫ এবং আস্থা কিলার ১০০০০

কেন এই প্রোডাক্টগুলো ব্যবহার করবেন:

  • স্বাস্থ্যকর চারা তৈরি: মাটির গুনগত মান বাড়ায়, রোগবালাই থেকে রক্ষা করে এবং গাছকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি যোগায়।
  • দ্রুত বৃদ্ধি: চারা গাছের দ্রুত বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যকর বিকাশ ঘটায়।
  • প্রচুর ফুল: গাছে প্রচুর শাখা প্রশাখা এবং ফুল আনতে সাহায্য করে।
  • পোকামাকড়ের আক্রমণ প্রতিরোধ: পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে গাছকে রক্ষা করে।

আপনিও আস্থা প্রোডাক্ট ব্যবহার করে সুন্দর এবং স্বাস্থ্যকর শীতের ফুলের বাগান তৈরি করতে পারেন।

এই শীতে ফসল হোক রোগমুক্ত! শীতের সবজি চাষে উন্নত ফলন পেতে বেছে নিন সঠিক জৈবিক সার!

 এই শীতে আপনার ফসলকে রোগমুক্ত এবং সুস্থ রাখতে চান? সঠিক জৈবিক সার দিয়ে দিন আপনার সবজি চাষে উন্নতির গ্যারান্টি!

শীতের সবজি থেকে ভালো ফলন পেতে মাটিকে সুস্থ রাখা অত্যন্ত জরুরি। আসুন জেনে নিই কিছু সেরা জৈবিক সার, যা আপনার ফসলকে রোগমুক্ত রাখবে এবং ফলনকে আরও উন্নত করবে।

1. ফসফেট সমৃদ্ধ অর্গানিক ফার্টিলাইজার (PROM)

উদাহরণ: Astha PROM (ফসফেট সমৃদ্ধ অর্গানিক ফার্টিলাইজার)

কীভাবে সহায়তা করে:
এটি মাটিতে জমে থাকা ফসফরাসকে গাছের শোষণের উপযোগী করে তোলে, যা শিকড়ের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং দ্রুত ফুল ফোটায়।
সেরা ফসল: গাজর, মূলা, পালং শাক, ব্রকোলি, ফুলকপি।

2. পটাশিয়াম-মোবিলাইজিং বায়োফার্টিলাইজার (KMB)

উদাহরণ: Astha KMB
কীভাবে সহায়তা করে:
এটি পটাশিয়ামকে সহজলভ্য করে, যা ফসলকে ঠান্ডা-সহিষ্ণু করে তোলে এবং সবজির স্বাদ, রং ও


আকার উন্নত করে।
সেরা ফসল: টমেটো, বিট, পালং শাক, ফুলকপি।

3. নাইট্রোজেন-ফিক্সিং বায়োফার্টিলাইজার

উদাহরণ:Rhizobium (ডাল জাতীয় ফসলের জন্য), Azotobacter/Azospirillum (অন্যান্য ফসলের জন্য)
কীভাবে সহায়তা করে:
এটি বাতাস থেকে নাইট্রোজেন সংগ্রহ করে, যা ফসলের বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে এবং সবজিকে স্বাস্থ্যবান করে তোলে।
সেরা ফসল: মটরশুটি, বিনস, শাকসবজি, ধনেপাতা।

4.  বায়ো ফাঙ্গিসাইড /Bio Fungicide

উদাহরণ: ট্রাইকোডার্মা ভিরিডি/সিউডোমোনাস ফুলুরোসেন্স 

কীভাবে সহায়তা করে:
এটি গাছের শিকড়ে বাসা বাঁধে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। মাটির পুষ্টিগুণও বৃদ্ধি পায়, যার ফলে ফসলের ফলন আরও ভালো হয়।
সেরা ফসল: আলু, বাঁধাকপি, গাজর, এবং ব্রকোলি সহ সকল ফসলের জন্য অত্যান্ত কার্যকর।

এই শীতে সঠিক জৈব সার বেছে নিন, ফসলকে সুস্থ রাখুন এবং পোকামাকড় ও রোগ থেকে সুরক্ষিত করুন। জৈব সার ব্যবহারে মাটির গুণমান বজায় থাকবে এবং আপনি পাবেন উন্নত স্বাদ ও পরিমাণের ফলন।

সুস্থ মাটি, ভালো ফসল!

সঠিক পদ্ধতিতে বায়োফার্টিলাইজার প্রয়োগ করে এই শীতে আপনার সবজি চাষে উন্নতির গ্যারান্টি দিন!

০৭ আগস্ট ২০২৪

ডাল চাষে আস্থা রাইজো (রাইজোবিয়াম) এর গুরুত্ব এবং ব্যবহার

 


















আস্থা রাইজো বা রাইজোবিয়াম হলো এক ধরনের জীবাণু সার যা ডাল চাষে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 

ভূমিকা পালন করে। এই জীবাণুগুলি ডাল গাছের মূলে জড়িয়ে বসবাস করে এবং বায়ুমণ্ডলীয় নাইট্রোজেনকে আমোনিয়া যৌগে রূপান্তরিত করে, যা ডাল গাছ সহজে শোষণ করতে পারে।

কেন রাইজোবিয়াম গুরুত্বপূর্ণ?

আস্থা রাইজো বা রাইজোবিয়াম হলো একটি পরিবেশবান্ধব এবং কার্যকর জীবাণু সার যা ডাল চাষে ফলন

বাড়াতে এবং মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
  • নাইট্রোজেন স্থিরীকরণ: রাইজোবিয়াম বায়ুমণ্ডলীয় নাইট্রোজেনকে গাছের ব্যবহার উপযোগী করে তোলে, যা গাছের বৃদ্ধি এবং ফলন বাড়াতে সাহায্য করে।
  • সারের ব্যবহার কমায়: রাইজোবিয়াম ব্যবহার করলে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমাতে হয়, যা পরিবেশের জন্য উপকারী।
  • মাটির উর্বরতা বাড়ায়: রাইজোবিয়াম মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ বাড়ায় এবং মাটির গঠন উন্নত করে।
  • গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: রাইজোবিয়াম গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।


কোন কোন চাষে রাইজোবিয়াম ব্যবহার করা যেতে পারে?


রাইজোবিয়াম মূলত দলীয় ফসল যেমন:

  • মটর: সব ধরনের মটর (কালো মটর, সবুজ মটর ইত্যাদি)
  • মসুর: সব ধরনের মসুর (লাল মসুর, সবুজ মসুর ইত্যাদি)
  • চালি: সব ধরনের চালি
  • কুইনোয়া: এই দানাশস্যটিতেও রাইজোবিয়াম ব্যবহার করা হয়
  • আলু: কিছু জাতের আলুতেও রাইজোবিয়াম ব্যবহার করা হয়

মনে রাখবেন: বিভিন্ন ফসলের জন্য বিভিন্ন ধরনের রাইজোবিয়াম জাত ব্যবহার করা হয়। তাই ফসলের ধরন অনুযায়ী সঠিক জাতের রাইজোবিয়াম ব্যবহার করা উচিত।

রাইজোবিয়াম ব্যবহারের উপায়:

  • বীজের সাথে মিশিয়ে: বীজ বোনার আগে বীজের সাথে রাইজোবিয়াম মিশিয়ে বোনা হয়।
  • মাটিতে মিশিয়ে: মাটিতে রাইজোবিয়াম মিশিয়ে তারপর বীজ বোনা হয়।

সতর্কতা: রাইজোবিয়ামকে সরাসরি সূর্যের আলো এবং উচ্চ তাপমাত্রার সংস্পর্শে আনবেন না। এটি জীবন্ত জীবাণু বলে তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার পরিবর্তন এর কার্যকারিতা নষ্ট করে দিতে পারে।

১৩ জুলাই ২০২৪

গাছের খাদ্য - সুস্থ বৃদ্ধির রহস্য

 সবুজ সুপারস্টারদের খাবারের রহস্য -  কী খায় গাছপালা?

আমাদের চারপাশে সবুজের সমারোহ। গাছপালা আমাদের জীবনে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।

কিন্তু কখনো কি ভেবেছেন, এই সবুজের পেছনে কত রহস্য লুকিয়ে আছে? গাছপালাও কি আমাদের মতো খাবার খায়?

হ্যাঁ, গাছপালাও বেঁচে থাকার জন্য খাবারের প্রয়োজন। তবে আমাদের খাবারের সাথে তাদের খাবারের অনেক পার্থক্য আছে।

গাছের খাদ্য কী?

গাছের খাদ্য হলো মূলত কিছু মৌলিক উপাদান যা মাটি থেকে শোষিত হয়। এই উপাদানগুলোকে আমরা পুষ্টি উপাদান বলি। প্রধান পুষ্টি উপাদানগুলো হলো:

  • ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্টস: নাইট্রোজেন (N), ফসফরাস (P), পটাশিয়াম (K), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), সালফার (S)
  • মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস: লোহা (Fe), ম্যাঙ্গানিজ (Mn), বোরন (B), জিঙ্ক (Zn), মলিবডেনাম (Mo), কপার (Cu)

এই উপাদানগুলো কিভাবে কাজ করে?

  • নাইট্রোজেন: নতুন কোষ তৈরি এবং পাতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
  • ফসফরাস: শিকড়ের বৃদ্ধি, ফুল ও বীজের উৎপাদনে সাহায্য করে।
  • পটাশিয়াম: জল শোষণে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
  • ক্যালসিয়াম: কোষের দেয়াল শক্তিশালী করে, শিকড়ের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
  • ম্যাগনেসিয়াম: ক্লোরোফিল তৈরিতে সাহায্য করে।
  • সালফার: কোষের বৃদ্ধি ও প্রোটিন তৈরিতে সাহায্য করে।
  • লোহা: ক্লোরোফিল তৈরিতে সাহায্য করে।
  • ম্যাঙ্গানিজ: শ্বাসক্রিয়া ও শক্তি উৎপাদনে সাহায্য করে।
  • বোরন: ফুল ও বীজের উৎপাদনে সাহায্য করে।
  • জিঙ্ক: উৎসেচক কার্যক্রমে সাহায্য করে।
  • মলিবডেনাম: নাইট্রোজেন স্থায়ীকরণে সাহায্য করে।
  • কপার: শ্বাসক্রিয়া ও শক্তি উৎপাদনে সাহায্য করে।

কতটা প্রয়োজন?

প্রতিটি পুষ্টি উপাদানের নির্দিষ্ট পরিমাণ গাছের জন্য প্রয়োজন। মাটির ধরন, গাছের প্রজাতি, এবং পরিবেশের উপর নির্ভর করে এই পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে।

উপাদানের অভাবের লক্ষণ:

  • পুষ্টি উপাদানের অভাব হলে গাছের বৃদ্ধি কমে যায়।
  • পাতা হলুদ হয়ে যেতে পারে।
  • পাতা ঝরে যেতে পারে।
  • ফুল ও ফলের উৎপাদন কমে যেতে পারে।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে।

সঠিক সার প্রয়োগ :

আপনি যদি মনে করেন আপনার গাছপালায় পুষ্টির অভাব রয়েছে, তাহলে মাটি পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত হতে পারেন। মাটি পরীক্ষার ফলাফলের উপর ভিত্তি করে আপনি সঠিক সার প্রয়োগ করতে পারবেন।

কীভাবে সার ব্যবহার করবেন?

  • বিভিন্ন ধরনের সার পাওয়া যায়। প্রতিটি সারের মধ্যে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের মাত্রা আলাদা হয়। আপনার গাছের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের উপর নির্ভর করে সার নির্বাচন করুন।
  • সারের প্যাকেটের নির্দেশাবলী সাবধানে পড়ুন এবং সঠিক মাত্রায় সার প্রয়োগ করুন। বেশি সার মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
  • জৈবিক সার, যেমন ভার্মিকম্পোস্ট বা কম্পোস্ট, ব্যবহারের চেষ্টা করুন। জৈবিক সার মাটির স্বাস্থ্য উন্নত করে এবং দীর্ঘমেয়াদী উপকারিতা দেয়।

গাছপালাও আমাদের মতো খাবার খায়। তবে, তাদের খাবার মাটি থেকে আসে। বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান গাছের সুস্থ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। সঠিক পরিচর্চা এবং সার প্রয়োগের মাধ্যমে আমরা আমাদের গাছপালাকে সুস্থ ও সবুজ রাখতে পারি।

১২ জুলাই ২০২৪

কৃষি ক্ষেত্রে নাইট্রোজেনের ভূমিকা

 নাইট্রোজেন হলো উদ্ভিদের তিনটি প্রধান পুষ্টি উপাদানের মধ্যে একটি, যা কার্বন এবং অক্সিজেনের পরেই আসে। এটি উদ্ভিদের প্রোটিন, নিউক্লিক অ্যাসিড এবং ক্লোরোফিল তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কৃষি ক্ষেত্রে, নাইট্রোজেনের পর্যাপ্ত সরবরাহ ফসলের উৎপাদনশীলতা এবং গুণমান বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

নাইট্রোজেন কীভাবে কাজ করে?

  • প্রোটিন তৈরিতে সহায়তা করে: নাইট্রোজেন প্রোটিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা উদ্ভিদের কোষের গঠন এবং কার্যকারিতার জন্য অপরিহার্য। এটি এনজাইম, অ্যান্টিবডি এবং
    অন্যান্য প্রোটিন তৈরিতেও ভূমিকা পালন করে যা উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও বিকাশে সহায়তা করে।
  • নিউক্লিক অ্যাসিড তৈরিতে সহায়তা করে: নাইট্রোজেন ডিএনএ এবং আরএনএ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়, যা উদ্ভিদের জিনগত তথ্য ধারণ করে। এই নিউক্লিক অ্যাসিডগুলি উদ্ভিদের বৃদ্ধি, বিকাশ এবং প্রজননের জন্য অপরিহার্য।
  • ক্লোরোফিল তৈরিতে সহায়তা করে: ক্লোরোফিল হল একটি সবুজ রঙ্গক যা উদ্ভিদকে সূর্যের আলো থেকে শক্তি শোষণ করতে সাহায্য করে। নাইট্রোজেন ক্লোরোফিলের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, এবং এটি পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকলে উদ্ভিদ সঠিকভাবে সালোকসংশ্লেষণ করতে পারে।

কৃষিক্ষেত্রে নাইট্রোজেনের গুরুত্ব

  • ফসলের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে: নাইট্রোজেন উদ্ভিদের পাতা, ডালপালা এবং শিকড়ের বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করে। এটি ফুল এবং ফলের উৎপাদনও বৃদ্ধি করে। পর্যাপ্ত নাইট্রোজেন সরবরাহ থাকলে ফসলের উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।
  • ফসলের গুণমান উন্নত করে: নাইট্রোজেন প্রোটিন এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের ঘনত্ব বৃদ্ধি করে ফসলের গুণমান উন্নত করতে সাহায্য করে। এটি ফসলকে আরও সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর করে তোলে।
  • মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে: নাইট্রোজেন মাটির জৈব পদার্থের মাত্রা বৃদ্ধি করে মাটির উর্বরতা উন্নত করতে সাহায্য করে। এটি মাটির জল ধরে রাখার ক্ষমতা এবং পুষ্টি উপাদান ধরে রাখার ক্ষমতাও বৃদ্ধি করে।

কৃষিক্ষেত্রে নাইট্রোজেন ব্যবহারের পদ্ধতি

  • জৈব সার:যেমন জৈব সার (জীবাণু সার), সবুজ সার, কম্পোস্ট এবং ভার্মিকম্পোস্ট, মাটিতে নাইট্রোজেনের একটি ধীরে ধীরে মুক্তি দেওয়ার উৎস সরবরাহ করে। এগুলি মাটির স্বাস্থ্য উন্নত করতে এবং দীর্ঘমেয়াদী নাইট্রোজেন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।

  • রাসায়নিক সার: ইউরিয়া এবং অ্যামোনিয়াম সালফেট কৃষিক্ষেত্রে নাইট্রোজেনের একটি দ্রুত উৎস হিসাবে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার। যাইহোক, রাসায়নিক সারগুলির অতিরিক্ত ব্যবহার মাটির স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে এবং পরিবেশ দূষণ ঘটাতে পারে। সুতরাং, মাটি পরীক্ষার মাধ্যমে নাইট্রোজেনের সঠিক মাত্রা নির্ধারণ করে রাসায়নিক সারের ব্যবহার সীমিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

  • ফসলের আবর্তন: ফসলের আবর্তন হলো একই জমিতে চলাকালীন বিভিন্ন ধরণের ফসল লাগানোর পদ্ধতি। কিছু ফসল, যেমন শিম, বাতাস থেকে নাইট্রোজেন সংগ্রহ করে মাটিতে সঞ্চয় করে রাখতে পারে। ফসলের আবর্তনের মাধ্যমে এই "নাইট্রোজেন-ফিক্সিং" ফসলগুলি অন্তর্ভুক্ত করা মাটিতে নাইট্রোজেনের প্রাকৃতিক সরবরাহ বজায় রাখতে সাহায্য করে।

নাইট্রোজেন কৃষিক্ষেত্রে একটি অপরিহার্য পুষ্টি উপাদান। এটি ফসলের উৎপাদনশীলতা এবং গুণমান উন্নত করতে এবং মাটির স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। কৃষকরা জৈব সার, রাসায়নিক সার এবং ফসলের আবর্তনের মতো বিভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে নাইট্রোজেনের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারেন। এই পদ্ধতিগুলি ব্যবহার করা ফসলের উৎপাদন বাড়াতে এবং পরিবেশকে সুরক্ষিত করতে সাহায্য করবে।


অ্যাজোটোব্যাক্টর: প্রাকৃতিক সার এবং ফসলের উর্বরতা বৃদ্ধির চাবি কাঠি


আজকের কৃষিক্ষেত্রে রাসায়নিক সারের ব্যবহার ব্যাপক হলেও, এর ক্ষতিকারক দিকগুলিও উপেক্ষা করা যায় না। মাটির স্বাস্থ্য নষ্ট করে ফেলে এই সার। সেক্ষেত্রে, পরিবেশবান্ধব কৃষিক্ষেত্রের চাহিদা বাড়ছে। এই চাহিদা মেটাতে একটি দারুণ উপায় হল আজোটোবাক্টর ব্যবহার। এটি মাটির উর্বরতা বাড়িয়ে ফসলের ফলন আরও ভালো করতে সাহায্য করে।

অ্যাজোটোব্যাক্টর কী ?

অ্যাজোটোব্যাক্টর এক ধরণের উপকারী ব্যাকটেরিয়া, যা বাতাসের নাইট্রোজেন (বায়ুমণ্ডলীয় নাইট্রোজেন) কে মাটিতে স্থাপন করে। আমরা জানি, নাইট্রোজেন গাছের জন্য অত্যন্ত জরুরি পুষ্টি উপাদান। কিন্তু গাছ সরাসরি বাতাসের নাইট্রোজেন নিতে পারে না। অ্যাজোটোব্যাক্টর এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এরা বাতাসের নাইট্রোজেনকে গাছের শোষণযোগ্য রূপে (যেমন, অ্যামোনিয়া) রূপান্তরিত করে, ফলে গাছের বৃদ্ধি আরো ভালো হয়।

কীভাবে কাজ করে অ্যাজোটোব্যাক্টর ?

অ্যাজোটোব্যাক্টর মাটিতে বাস করে। এরা বায়ু থেকে নাইট্রোজেন স্থাপনের জন্য একটি বিশেষ এনজাইম, নাইট্রোজেনেস,  ব্যবহার করে। এই প্রক্রিয়ায়, বাতাসের নাইট্রোজেন দুটি নাইট্রোজেন পরমাণুর (N₂)  জোড় ভেঙে যায় এবং পরে একক নাইট্রোজেন পরমাণু (N) গুলিকে অ্যামোনিয়াতে (NH₃) রূপান্তরিত করা হয়। এই অ্যামোনিয়া গাছের শেকড়ের মাধ্যমে শোষিত হয়ে গাছের পাতা, ফুল ও ফলে ব্যবহৃত হয়।

কোন ফসলে অ্যাজোটোব্যাক্টর কার্যকর ?

  • ধান
  • গম
  • ভুট্টা
  • আখ
  • সরষে
  • সবজি (টম্যাটো, capsicum ইত্যাদি)
  • তুলা

অ্যাজোটোব্যাক্টর ব্যবহারের পদ্ধতি :

অ্যাজোটোব্যাক্টর (biofertilizer) বাণিজ্যিকভাবে পাউডার ও লিকুইড আকারে পাওয়া যায়। এটি ব্যবহারের পদ্ধতি সহজ:

বপনের ঠিক আগে বীজকে ভিজানোর সময় জলের সঙ্গে নির্দেশিত পরিমাণে অ্যাজোটোব্যাক্টর মিশিয়ে নিন।

অথবা, জমি প্রস্তুত করার সময় জমিতে সরাসরি অ্যাজোটোব্যাক্টর মেশানো যেতে পারে।

**  কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় **

কার্যকারিতা সুনিশ্চিত করতে, ভালো মানের অ্যাজোটোব্যাক্টর কিনুন সে ক্ষেত্রে Astha AZO ব্যবহার করতে পারেন।

মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যাজোটোব্যাক্টর কখনোই ব্যবহার করবেন না।